বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
প্রথমপাতা > ক্যাম্পাস > ক্যাম্পাসে আট চাকায় উড়ে চলা

ক্যাম্পাসে আট চাকায় উড়ে চলা

মাহমুদল হক সোহাগ*

‘এমন যদি হতো, আমি পাখির মতো, উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ…’ এই গানটি অপছন্দ করেন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে এটি নিশ্চিত করে বলা যায়, পাখির মতো উড়ে বেড়ানোর ইচ্ছা সবার মনেই জাগে। এটা বাস্তবে কখনও সম্ভব নাকি? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে যেতে হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর কাছে, যারা তাদের সবুজ ক্যাম্পাসের বুকে কখনও আলো ঝলমলে সকালে, কখন পড়ন্ত বিকেলে, আবার কখনও বা রাতের আকাশের তারার নিচে রঙিন পাখির মতো উড়ে বেড়ায় মনের আনন্দে। তাদের পায়ে থাকে চার চার আট চাকার জুতো, যা মাটিকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বিশাল ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। হ্যাঁ, আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কেটারদের কথাই বলছি। দুই বছর আগেও কিছু ছেলে মেয়েকে প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে স্কেটিং করতে দেখা যেত, আর আজ সেখানে তারা প্রায় ৩০-৪০ সদস্যের একটি ক্লাব। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে প্রথম স্কেটিং ক্লাব হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কেটারসদের সবাই এক নামেই চেনে এখন।

যাত্রাটা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। তারপর থেকে খুব দ্রুত বেড়েছে নতুন স্কেটারের সংখ্যা, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের স্কেটিংপ্রেমীরাও। তাদের এই আনন্দময় ছুটে চলায়, সঙ্গে রয়েছে একটি দারুণ সেøাগান ‘ডঊ চজঊঋঊজ ঞঙ ঋখণ’। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কেটিং ক্লাবের সভাপতি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা যে ইচ্ছেতো বিচ্ছিন্নভাবে শুধু স্কেটিং করি, সেটি নয়। আমরা নিয়মিতভাবে বিশেষ বিশেষ দিবসগুলো স্কেটিং র‌্যালিসহ উদযাপন করে থাকি। স্বাধীনতা দিবসে লেজার স্কেটিং ক্লাবকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের জাতীয় পতাকা নিয়ে স্কেটিং করি পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।

ক্লাবের উপদেষ্টা, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ ক্লাবটির সম্পর্কে বলেন- স্কেটিং ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। এটি ক্যাম্পাসের ছাত্র এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের অন্যান্য সদস্যদের দেশ ও সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে অনুপ্রাণিত করছে। ইতিহাস সবসময় তাদের অবদানকে মনে রাখবে যারা এই ক্লাবের সূচনা করেছে এবং ক্লাবটির ভবিষ্যতে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্ত ভিত্তি দাঁড় করানোর জন্য প্রতিনিয়ত সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নবীন ক্লাবটি, এরই মধ্যে কয়েকটি সফল ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছে। মূলত নতুন সদস্যদের স্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর ক্লাবটি বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সহোযোগিতায় একটি তিন দিনব্যাপী ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। যেখানে ঢাকার প্রফেশনাল লেভেলের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্কেটারদের দ্বারা নবীন স্কেটারদের স্কেটিংয়ের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া ওয়ার্কশপ ছাড়াও সারা-বছর নতুন স্কেটারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য ক্লাবটির রয়েছে নিজস্ব তিনজন প্রশিক্ষক। মূলত, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে যে কেউ যাতে নিঃসঙ্কোচে নিজেকে স্কেটিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই ক্লাবে একই সঙ্গে পুরুষ এবং নারী প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পায়ের তলায় আট আটটি ক্ষুদে চাকায় ছেলেমেয়েগুলো ভেসে বেড়াক হাওয়ায়, বুক ভরে শ্বাস নিক। আর তা দু’চোখ ভরে দেখুক সবাই। এমনই প্রত্যাশা সবার।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।