বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
প্রথমপাতা > অন্যান্য > স্বর্ণ বিজয়ী ৭ জন

স্বর্ণ বিজয়ী ৭ জন

রাইয়ান বিন আমিন

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী ‘ডিউক অব এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। বিশ্বব্যাপী কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্য থেকে সেরা ইয়ুথ একটিভিস্টদের বৃটিশ হাইকমিশনের মাধ্যমে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশকে এই অ্যাওয়র্ডের অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সবাই স্কুল- কলেজ পর্যায় থেকেই স্বেচ্ছাসেবার সাথে সম্পৃক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর কাজের দুয়ার আরও উন্মুক্ত হয়ে যায়। বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেননি। যুক্ত হয়েছেন“জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড নেশন অ্যাসোসিয়েশন” (জেইউমুনা)- এর সাথে। সংগঠনটি মূলত ইয়ুথ লিডারশীপ, কমিউনিকেশন স্কীল, নেগোসিয়েশন স্কীল এবং নেটওয়ার্কিং- এর বৃদ্ধির জন্য কাজ করে থাকে। এসব কাজের অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহিত হয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বরে সাতজনের এই দলটি আ্যওয়ার্ড প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন।
“সেবা প্রদান, সামাজিক দক্ষতা, চিত্তবিনোদন এবং দুঃসাহসিক ভ্রমণ” অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির জন্য এই চার বিভাগে বিগত ১৮ মাস যাবৎকাজ করার পর গত ১০ ডিসেম্বর বৃটিশ হাইকমিশনে এক আরম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরদের স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। স্বর্ণপদক প্রাপ্ত জাবির শিক্ষার্থীরা হলেন, গণিত বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের মাহমুদুল হাসান, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের জাহিদুল হাসান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের রুবায়া নাসরীন সেজুতি, মার্কেটিং বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের সানজিদা কবির ফেয়ার ও সানসান শিলা এবং অর্থনীতি বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের নাজমুল ইসলাম খান।
‘সেবা প্রদান’ বিভাগের অধীনে ‘জেইউমুনা’র মাধ্যমে তারা যুব নেতৃত্ব গঠনে কাজ করেছেন। ‘সামাজিক দক্ষতা’ বিভাগের অধীনে ‘জাহাঙ্গীরনগর মডেল ইউনাইটেড নেশন- ২০১৭’ এর মতো একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান সহ ‘ক্যারিয়ার এ্যাট ইউএন’, ‘শেপ দ্যা ড্রিম’ এবং ‘ইয়ুথ মিনিস্টিরিয়াল-২০১৬’ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং আয়োজন করেছেন। চিত্তোবিনোদরেন জন্য সবাই মিলে একসাথে সাইকেলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং দুঃসাহসিক ভ্রমণের জন্য ২০১৭ সালে বান্দরবনের বগা লেক এবং এই বছরের জুনে নেপালের পোখারা শহরে ট্যুর দিয়েছেন। রুমা থেকে ট্র্যাকিং করে বগা লেক যাওয়া এবং পোখারার ফেওয়া লেকে কায়াকিং, প্যারা গ্লাইডিং ও শ্বেতী নদীতে রাফটিং-এর মতো দুঃসাহসিক কাজ করতে হয়েছে।
এই সম্মাননার ফলে কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলোতে বৃত্তির সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য খুব সহজেই যাওয়া যাবে বলে জানানগনিত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম। এজন্যইবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান তিনি। শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি ভূমিকা রাখতে চান আর্থ সামাজিক উন্নয়নে।
তার মতে, ‘আমাদের বিশ্ব নাগরিকবলা হয়। কিন্তু আমরা একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও তেমন সুযোগ- সুবিধা পাই না। তাহলে বুঝা যাচ্ছে গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ।’ তাই দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চান মাহমুদুল।
বাংলাদেশকে নতুন আলোর পথ দেখাতে চান মার্কের্টি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা কবির ফেয়ার। এজন্য দেশের পথ শিশু ও বৃদ্ধাশ্রমের প্রচলিত ধারণা পরিবর্তন করে তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ফেয়ার বলেন, বিভিন্ন সামাজিক কাজ করতে এমন একটা আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড আমাকে সব সময় উৎসাহিত করবে। আমি ভবিষ্যতে পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি আজকের শিশুরাই আগামীর বাংলাদেশ।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।