বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
প্রথমপাতা > অন্যান্য > জাবির সেরা তিন বিতার্কিক

জাবির সেরা তিন বিতার্কিক

রাইয়ান বিন আমিন

ফয়সাল মাহমুদ শান্তু খুব সহজভাবে প্রতিপক্ষের কথাগুলোকে যুক্তি দিয়ে ভাংতে পারে। তাজরীন ইসলাম তন্বী প্রত্যেকটা প্রস্তাবকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দলের মধ্যে অলোচনা তৈরী করতে বেশ পটু। আর প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করতে মারুফ বিন মোজাম্মেল অতুলনীয়। তিনজনের এই যোগফলেই সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগীতা ২০১৮- তে দেশ সেরা ৩২ টি বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অরগানাইজেশন(জুডো)। বিতর্ক নিয়ে স্বপ্নচারী তিন তরুণের কথা জানাচ্ছেন রাইয়ান বিন আমিন।

স্কুল-কলেজ জীবনে কখনো বিতর্ক করা হয়নি। তবে আবৃত্তি করতেন। ২০১৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরই দুই বড় ভাইয়ের চাপে পড়ে মূলত বির্তকের সাথে যুক্ত হন। প্রথমদিকে যখন বিতর্ক শিখতে আসতেন তখন সবাই তার কথা মন দিয়ে শুনত। তখন থেকে বুঝতে পারলেন, তার কথার মধ্যে এমন কিছু আছে যার ফলে তার কথা সবাই শুনে এবং মজা পায়। এভাবেই শুরু হয় বির্তক যাত্রা। বলছিসম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগীতা ২০১৮- এর সেরা বিতার্কিক মারুফ বিন মোজাম্মেলের কথা।

এই অল্প সময়ের মধ্যেই তার ঝুলিতে ভরেছেন জাতীয়, আন্তঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তঃ বিভাগ ও হল বিতর্ক প্রতিযোগীতায় সেরা বিতার্কিকের পুরস্কার। জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপের ট্রফিওঅর্জন করেছেন।

মারুফের মতে,বিতর্ক তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে আরও সহজ করেছে।যখন বিতর্ক করেন তখন অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান, সরকার ও রাজনীতি সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সাথে দর্শনকেও প্রয়োগ করতে পারেন। ফলে বিতর্কের মঞ্চে তিনি নিজেকে বিশ্বের ছাত্র বলে মনে করেন।

তাজরীন ইসলাম তন্বীর বিতর্কে পথচলা শুরু ছোটবেলা থেকে।নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু বিতর্ক দিয়ে। মফস্বলে বিতর্ক করা অনেক কঠিন হলেও সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে হলিক্রস কলেজের বিতর্ক সংগঠনের সহ-সভাপতি। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। একইসাথে জুডো-এর প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বলার মতো তেমন কোন অর্জন না থাকলেও জাবির মুক্তমঞ্চে দাড়িয়ে বিতর্ক করে ট্রফি জেতার স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে। বিজয়ী দলের সদস্য হিসেবে ‘একটি দলকে বিজয়ী হতেহলে দলের মধ্যে ভারসাম্য এবং বোঝাপড়া থাকতে হবে’ বলে জানালেন তন্বী। দলের তিনজন তিন জায়গায় দক্ষ বলেই আট রাউন্ড শেষে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছেন।

ছোটবেলা থেকেইযুক্তি-তর্কের প্রতি ভালোলাগা ছিল ফয়সাল মাহমুদ শান্তর। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে কখনো বিতর্কের মঞ্চে উঠা হয় নি। দর্শন বিভাগে পড়ার কারণ এবং বিভাগের বন্ধুদের দেখে বিতর্কের এই জায়গাটা আরও আনন্দদায়ক মনে হয়। ইচ্ছে করে নিজের যুক্তির ক্ষুরধারে বিদ্ধ করবেন প্রতিপক্ষের যুক্তিকে। সেই ইচ্ছাকে বাস্তবাবে রূপ দিতে ২০১৫ সালের শেষের দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অরগানাইজেশন(জুডো)-তে যোগদান। এভাবে কখন যে বিতর্ক শুরু করা হয়েছে তা খেয়াল করতে না পারলেও একে একে আন্তঃবিভাগ, আন্তঃহল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রায় সবগুলো বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রায় সবগুলোতেই ঘরে এনেছেন চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপের ট্রফি।

নিজের কথাকে যুক্তি আকারে বলতে পারাকেই বিতর্ক বলে মনে করেন না জুডো’র এই সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিতর্ককে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়ে তাকে প্রান্তিক পর্যায় পৌছে দিতে চান। যার মাধ্যমে যুক্তিবাদি মানুষ তৈরী হবে। যারা সত্যকে অন্বেষণ করবে। জোর গলায় চিৎকার দিয়ে কথা না বলে যুক্তির চর্চাটা অনেক বেশী দরকার বলে মনে করেন শান্ত।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।