বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
প্রথমপাতা > ক্যাম্পাস > সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পেশা সাংবাদিকতা: মাহফুজ আনাম

সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পেশা সাংবাদিকতা: মাহফুজ আনাম

শরিফুল ইসলাম সীমান্তঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকতাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক এবং রোমাঞ্চকর পেশা বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টার’র সম্পাদক মাহফুজ আনাম। বুধবার ‘সাংবাদিকতা শিক্ষা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা হচ্ছে সমাজের বঞ্চিত, শোষিত এবং লাঞ্ছিত শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধি। তারা যদি তাদের হয়ে কথা না বলে তবে কে বলবে? তাদের হয়ে কথা বলার মন মানসিকতা নিয়েই তরুণ প্রজন্মকে সাংবাদিকতায় আসতে হবে।”
এদিকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেছে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, দুই জন প্রথিতযশা ব্যক্তিকে আজীবন সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা এবং বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘জেএমএস পেন ডটকম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
সকাল এগারোটায় জাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালী। র‌্যালী শেষে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার’র সম্পাদক মাহফুজ আনাম কে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা। বিভাগটির সভাপতি সহকারি অধ্যাপক উজ্জল কুমার মণ্ডল তাদের হাতে আজীবন সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংবাদিকতা শিক্ষা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। আলোচনা সভায় ড. গোলাম রহমান বলেন, “সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে পেশাগত জীবনের বিস্তর ব্যবধান। সাংবাদিকতার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। সংগঠনগুলো বিভিন্ন দাবি দাওয়া আদায়ে যতটা কার্যকর সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ততটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না।”
অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে মাহফুজ আনাম বলেন, “আমরা সাংবাদিকরাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বাধীন চেতনা থাকাটা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা উপলদ্ধি না করে নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দল-মতের পক্ষে লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকতা করি। স্বাধীন সমাজের জন্য সাংবাদিকদের স্বাধীন এবং সমালোচক মন থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য সাংবাদিকদেরকে প্রতিনিয়ত সমালোচক মন তৈরির চর্চা করতে হবে। তৈরি করতে হবে সব কিছু নিয়ে প্রশ্ন করার গুণ। কেননা একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ হল প্রশ্ন করা।”
সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকাকে ভুল চোখে দেখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২৫ বছরের সম্পাদনার জীবনে আমি এখনো সরকারকে বোঝাতে পারিনি স্বাধীন সাংবাদিকতা সরকারের নিজস্ব স্বার্থের জন্যই কতোটা প্রয়োজন। এখনো সরকার আমাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখে। মনে করে স্বাধীন সাংবাদিকতা একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। এক ধরনের উৎপাত। সরকারের ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করলে তারা মনে করে আমরা তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছি। অথচ তারা বুঝতে চায় না আমরা তাদের ভালোর জন্যই এই কাজ করি। এই আস্থাটাই আমরা সাংবাদিকরা এখনো পর্যন্ত অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি।”
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভাগটির সহকারি অধ্যাপক আমিনা ইসলাম, শেখ আদনান ফাহাদ, সালমা আহমেদ, হাসান মাহমুদ ফয়সল, সুমাইয়া শিফাত, মীর মো.ফজলে রাব্বি, প্রভাষক নিশাত পারভেজ ও শিবলী নোমান এবং বিভাগটির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।