বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
প্রথমপাতা > সাক্ষাৎকার > দেশপ্রেমিক গণমাধ্যমকর্মী তৈরি করাই বিভাগটির লক্ষ্য

দেশপ্রেমিক গণমাধ্যমকর্মী তৈরি করাই বিভাগটির লক্ষ্য

২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ত্ব পালন করছেন বিভাগেরই শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মন্ডল। যাত্রা থেকে শুরু করে বিভাগটির এ পর্যন্ত আসা, পাওয়া, না পাওয়া, চাওয়া, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক, বিভাগ নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পণা এবং দেশ ও জাতি গঠনে এ বিভাগের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।  সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন মঈনুল রাকীব । সাক্ষাৎকারটি ইতিমধ্যে প্রাচ্যনিউজে প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আসা নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের কাছে যদি কিছু বলতে অনুরোধ করা হয় তবে কি বলবেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: শুরু থেকে যদি বলি, প্রায় পাঁচ বছর হলো আমাদের বিভাগের বয়স। এখন প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর সবকটি ব্যাচ রয়েছে। এখন আমাদের পরিকল্পনা একটাই,  আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিকভাবে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে এমনভাবে তাদেরকে আমরা প্রস্তুত করা। যেন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তারা কাজ করতে পারে। আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের কথা মাথায় রেখে, জনগণের কথা মনে রেখে গণমাধ্যমে সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতা চর্চার মাধ্যমে জনবান্ধব সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্ন: বিভাগের একাডেমিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমরা চাই সব সময় একাডেমিক ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং এ ব্যাপারে আমার সহকর্মীরা একমত। আমরা ল্যাব চালু করতে চাচ্ছি। সেমিনারে বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছি। আর তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে সে কারণে যারা সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন তাদেরকে আমরা বিভাগে নিয়ে আসছি। তারা ক্লাসে আসছেন। যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে আমরা সাধ্যমত তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ অন্য বিভাগ থেকে ভিন্ন আবেদন তৈরি করে বলে মনে করেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: শুধু বর্তমান নয়, আমি মনে করি সৃষ্টির শুরু থেকে যোগাযোগ বা তথ্যপ্রবাহের গুরুত্ত্ব ছিল। এখন সেটি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় জনসমষ্টি বেড়ে গেছে, আমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। এখন আমাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম গণমাধ্যম। এটাকে বাদ দিয়ে আসলে জীবন চলার কোন উপায় নেই। একারণে প্রতিদিন গণমাধ্যমে কি হচ্ছে সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা সাবজেক্ট বললে আমরা ভুল করবো, এটা মানুষের জীবনের একটি অঙ্গ। একারণে একদিন যদি আমরা গণমাধ্যমের সংষ্পর্শে না আসতে পারি মনে হতে পারে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে চলে গেছি। এ কারণে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়টির গুরুত্ত্ব অনেক বেশি। সেটি প্রয়োজন এবং পেশাদারিত্ত্ব উভয় দিক থেকেই।

প্রশ্ন: জাবির এই বিভাগটিকে দেশ-বিদেশের কাছে পরিচিত করতে কি কি পরিকল্পণা রয়েছে?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমরা দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার চিন্তা করছি। স্টুডেন্ট এক্সচেইঞ্জ প্রোগ্রাম করার কথা ভাবছি। কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে ফটোজার্নালিজম কোর্সের একাডেমিক কারণে এসেছিল। আমাদের ইচ্ছা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জ্ঞান ও একাডেমিক কার্যক্রম আদান-প্রদান।

প্রশ্ন: এই বিভাগটিকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চান?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমি দেখতে চাই এই বিভাগটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিভাগ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় গুণগত উচ্চমান দিয়ে এটি সমগ্র বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করবে। অন্যরা আকৃষ্ট হবে। ইতোমধ্যে আমাদের বিভাগের জার্নালে প্রকাশের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নিবন্ধ পাঠিয়েছেন। এটাকে আমরা ইতিবাচক ভাবছি। এটি শুধু জাহাঙ্গীরনগর বা বাংলাদেশের নয়, সমগ্র পৃথিবীর জন্য একটি আদর্শ বিভাগ হবে এটা আমরা দেখতে চাই। সেই লক্ষে আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: কেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগটিকে দেশের মধ্যে অদ্বিতীয় মনে হয়?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমাদের শিক্ষার্থীদের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে তারা শিখছে, আবার ঢাকার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে যোগাযোগও রয়েছে। সুন্দর পড়ার পরিবেশ পাচ্ছে। বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ শুধু একাডেমিক সময়ে না অন্য যেকোন সময়ে শিক্ষার্থীর সময় দেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগটা অনন্য। যখনই শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা দেখা দেয় তখনই আমরা এক সাথে কাজ করে সমাধানের চেষ্টা করি যেটা অন্য প্রতিষ্ঠানে খুব কম দেখা যায়। আমি বলবো, আমাদের ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটি অদ্বিতীয়।

প্রশ্ন: এ বিভাগের পাঠ্যবহির্ভূত সৃজনশীল কর্মকান্ড কেমন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: পাঠ্যসূচির বাইরে আমাদের বিভাগের অর্জন অনেক বেশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা এই অল্প সময়ে এমন কিছু অর্জন করেছে যেটি অন্য অনেক বিভাগ পারেনি। ক্রিকেট, ফুটবলসহ এথলেটেও দারুন করছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুততম মানব মামুন সর্দার আমাদের বিভাগের, কেন্দ্রীয় খেলার দলে আমাদের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। নারীদের মধ্যে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া শারমিন নামের মেয়েটি আমার বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। এ ছাড়া বিতর্ক, কবিতা, সংগীতসহ প্রায় সকল শাখায় আমাদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। বিভাগের বয়স পাঁচ বছর হতে না হতেই এতটা অর্জন আমাদের।

প্রশ্ন: ডিজিটাল বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় এই বিভাগটিকে কতটুকু সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি দুটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে। সেমিনার গ্রন্থাগারটিকে ডিজিটাল করার চেষ্টা শুরু করেছি। আমরা বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করেছি। বিভাগের নোটিশবোর্ডের পাশাপাশি এখানেও ফলাফল, বিজ্ঞপ্তি এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড নিয়মিত প্রকাশিত হয়। ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের প্রোফাইল এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পূর্ণ পরিচয়ের তালিকা রয়েছে যেটি বাংলাদেশে অনন্য। আর পুরো বিভাগটিই এখন ওয়াফাই ইন্টারনেট ব্যবস্থা এর আওতায় রয়েছে।

প্রশ্ন: এ পর্যন্ত আসতে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগকে কি পরিমাণ প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষীন হতে হয়েছে এবং তা মোকাবেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কি ধরনের ভূমিকা ছিল?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আগেই বলেছি এই বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি ছাত্র-শিক্ষক সুদৃঢ় ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক, যেটা আমরা একটা পরিবারে দেখতে পাই। আমি মনে করি, এ বিভাগটিও একটি পরিবার। আমরা শুরু থেকেই বাঁধার মুখে পড়েছিলাম। এক সময় আমার শিক্ষার্থীদের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে গিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে। আজ এ বিভাগ নতুন কলা ভবনের চতুর্থ তলায় একটি জায়গা পেয়েছে এবং এটার একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমাদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসরুম পায়নি। আজ এ বিভাগ ক্লাসরুম পেয়েছে এবং এজন্য প্রথম ব্যাচসহ আমার অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রতি বিভাগ কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের কারণে বিভাগ আজ এই জায়গাটি পেয়েছে। আমাদের আন্তঃসম্পর্কটি যদি অটুট থাকে তবে এ বিভাগ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা অবশ্যই সবার চোখে পড়ার মত হবে। পাশাপাশি জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ জাহাঙ্গীরনগরের একটি সেরা বিভাগ হবে।

প্রশ্ন: দেশ ও জাতির জন্য সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কিভাবে প্রস্তুত করছেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: আমরা সবার আগে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের উপর গুরুত্ত্ব আরোপ করছি । একজন সাংবাদিক দেশ ও জাতির উন্নয়নে বড় ধরনের দায়িত্ত্ব পালন করতে পারে। একজন গণমাধ্যমকর্মী অসংখ্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন যা অন্য পেশার মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের শিক্ষার্থীদের আমরা বাংলাদেশের প্রতি দায়বদ্ধতার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠতার শিক্ষা দিয়ে আদর্শ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে প্রস্তুত করছি যারা পেশাদারী ও জনদরদী হবে। দেশপ্রেমিক ও জনদরদী গণমাধ্যমকর্মী তৈরি করতে চাই আমরা।

প্রশ্ন: সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গিয়ে কেন জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকবে কিংবা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে বলে আপনি মনে করেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: এর অবশ্যই একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। জীবন ও সাংবাদিকতা সম্পর্কে যখন একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান বেশি থাকবে তখন সে অবশ্যই এগিয়ে থাকবে। সেটি যেকোন চাকরি বা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকবে কারণ তারা সংবাদের সোর্স থেকে শুরু করে স্ট্রাকচার, বেসিক থেকে এডভান্স লেভেলের সবকিছু এখানেই পেয়ে যায়। আমরা তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় জ্ঞানেই তাদের দীক্ষিত করছি।

প্রশ্ন: এই বছর যারা জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি পরীক্ষা দেবে তারা কেন পছন্দের বিষয় হিসেবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকে উপরে রাখবে?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: যারা এবার ভর্তি পরীক্ষা দেবে আমার মনে হয় তাদের প্রথম পছন্দের বিষয় হবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ। কারণ এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই যে অবদান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রেখেছে, রাখছে এবং আমরা যেভাবে শ্রম দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলি সেটি সম্পর্কে জানলে এই বিভাগটি পছন্দের তালিকায় উপরে চলে আসবে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীতেই নিজ গুণে গণমাধ্যম একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। গণমাধ্যম ছাড়া আমরা পূর্ণ পৃথিবী পাবোনা। সকল অর্জনকেই গণমাধ্যমে আসতে হবে। একারণে ভবিষ্যতে সকলেই গণমাধ্যম সম্পৃক্ত থাকতে চাইবে। গণমাধ্যম কর্মী হওয়াটা এখন পেশা হিসেবে যেমন মর্যাদার আবার মানব সেবা করার জন্যই যুগোপযুগী। এ কারণেই আশা করি এ বিভাগে পড়তে আসবে নবীন শিক্ষার্থীরা।

প্রশ্ন: বর্তমানে এই বিভাগের সভাপতি ও শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনের কাছে কি কিছু চাওয়ার রয়েছে যা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য জরুরি?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা যা চেয়েছিলাম তার অনেক কিছুই পাইনি। তবে এই বিভাগের উন্নয়নের জন্য অবশ্যই প্রশাসনের সুনজর প্রয়োজন। প্রশাসন যদি ইতিবাচক মানসিকতায় এগিয়ে আসে তবে এই বিভাগ নিয়ে আমাদের যে স্বপ্ন তা অতিদ্রুতই পূর্ণ হবে। আমরা একটি উন্নতমানের মাল্টিমিডিয়া বা ডিজিট্যাল ল্যাব প্রত্যাশা করছি প্রশাসনের কাছে। এটা পেলে তাত্ত্বিক জ্ঞানকে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া যাবে। এই দিকটায় আমরা প্রশাসনের একটু সুনজর চাচ্ছি।

প্রশ্ন: এই বিভাগে বর্তমানে অধ্যয়নরত ৪১ তম আবর্তন থেকে ৪৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য কি কিছু বলবেন?

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: এই বিভাগ একটি পরিবার। আমরা সবাই এ পরিবারের সদস্য এবং এই পরিবারের প্রাণভোমরাই হচ্ছে আমার শিক্ষার্থীরা। আমার শিক্ষার্থীরা ভাল করলে এই বিভাগের সুনাম আর খারাপ করলে বিভাগেরই দুর্নাম। মূলত এই শিক্ষার্থীদের উপরে নির্ভর করছে আমাদের বিভাগ আমাদের স্বপ্ন কতোটা পূরণ করবে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও আমরা যদি একসাথে থাকি, পরস্পরের সাথে যোগাযোগে আবদ্ধ থাকি তবে অবশ্যই এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এই বিভাগটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস চেষ্টা করছি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকুক এই দেশ, এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং এই বিভাগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হবে এটাই আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার লক্ষ্যে সদ্য চালু হওয়া প্রাচ্যনিউজ ডটকম সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: অবশ্যই আমার কাছে ভাল লাগছে যে আমার শিক্ষার্থীরা প্রাচ্যনিউজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আমি এতক্ষণ যা বলছিলাম যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে হোক কিংবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার শিক্ষার্থীরা ব্যতিক্রম কিছু করবে। সেটার একটি প্রমাণ হচ্ছে এই প্রাচ্যনিউজ ডটকম। এর থেকেই বের হয়ে আসে আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা। এখনো তারা স্নাতকোত্তর শেষ করতে পারেনি অথচ এরকম বড় ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে। আমি শুভকামনা জানাই, প্রাচ্যনিউজ ডটকম যেন স্থায়ীভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশ্ন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, স্যার। আপনার মূল্যবান সময় থেকে প্রাচ্যনিউজের জন্য কিছুটা সময় দেয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

উজ্জ্বল কুমার মন্ডল: তোমাকে এবং প্রাচ্যনিউজকে শুভেচ্ছা ।

(সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময়: ৫ নভেম্বর, ২০১৬)

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।