বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
প্রথমপাতা > নির্বাচিত > জাহাঙ্গীরনগরে শীতের দিনলিপি!

জাহাঙ্গীরনগরে শীতের দিনলিপি!

আল-আমীন*

ভোরের আলো ফুটলেও পুব আকাশে সূর্যের দেখা নেই তখনো! শীতল আলস্যে সূয্যি মামারও বুঝি ঘুম ভাঙ্গেনি। বিস্তৃত কুয়াশার চাদর তখন প্রকৃতির গায়ে। আপাদমস্তক এ চাদর জড়িয়ে প্রকৃতিও যেন ঘুমন্ত!

কুয়াশার চাদরে ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর: ছবি-লেখক

 

শীতের বিদায়ী লগ্নে প্রকৃতিতে এখন বসন্তের হাতছানি। কিন্তু তা আর বোঝবার উপায় কই? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে এখনো যে ভরাশীত কাল।

উদীয়মান ভোরেরসূর্য: ছবি-লেখক

টকটকে লাল সূর্যটার রঙিন আভা আকাশে মৃদু আলো ছড়াতে শুরু করে ততোক্ষণে। গাছের পাতার আড়ালে মুচকি হাসে টুকটুকে লাল সূর্যি মামা। কুয়াশার ঘন আবরণ ধীরে ধীরে কেটে যেতে শুরু করে।

সূর্যের হাসি: ছবি-লেখক

সূর্যের আগমনীবার্তা পেয়ে পাখিরাও জেগে উঠতে শুরু চারিদিকে! কিচির মিচির রব উঠে তখন ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে৷ঘর ছেড়ে খাবারের সন্ধানে বেরুতে শুরু করে পাখিদের একেকটি দল।

পরিযায়ী পাখির দল: ছবি-লেখক

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বিস্তৃত সবুজ ঘাসে যেন ছোট ছোট হীরকখন্ডের ছড়াছড়ি৷সূর্যের মৃদু আভায় চিকচিক করে চারিদিক। শিশিরস্নাত মাঠটিতে হীরক স্পর্শ পেতে হাঁটার ইচ্ছে কার না জাগে?

শিশিরস্নাত প্রকৃতি: ছবি-লেখক

কবি গুরুরবীন্দ্রনাথের ভাষায়,
“শীতেরবনে কোন সে কঠিনআসবেব’লে
শিউলিগুলোভয়েমলিনবনের কোলে
আমলকিডালসাজলকাঙাল, খসিয়েদিল
পল্লবজাল”

শুষ্ক প্রকৃতি: ছবি-লেখক

শীতের রুক্ষ আর শুষ্ক প্রকৃতি নাকি রঙ-রূপহীন! অথচ প্রকৃতির প্রাচুর্যতায় ভরপুর এ ক্যাম্পাসটিতে রূপলাবণ্যের কোন ঘাটতি হয়না কখনোই। শীতে ক্যাম্পাসটির প্রকৃতি ও পরিবেশ সেজে ওঠে অনন্য সাজে।

শীতেও লাবণ্যময় প্রকৃতি: ছবি-লেখক

উত্তরের প্রচন্ড হিমেল হাওয়া কড়া নাড়ে জানালায়! বাতাসে বাজে পাতা ঝরার গান। আকাশে ভেসে বেড়ায় হাজারো পরিযায়ী পাখির গান। অদ্ভুত এক ছন্দময় পরিবেশ তৈরী হয় ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে! শীতের সৌন্দর্য্যকে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয় পরিযায়ী দলের চঞ্চল উড়াউড়ি। লেকের স্বচ্ছ জলে মনের আনন্দে জলকেলিতে মেতে উঠে তারা। সে আনন্দ ছুয়ে যায় প্রতিটি মানবহৃদয়কে। পাখির মতোন উড়বার বাসনা জাগায়। মনকে দুলিয়ে তোলে পাখিদের অবাধ চঞ্চলতা।

ঝরা পাতার গান: ছবি-লেখক

লেকগুলো এ সময় লাল শাপলা দিয়ে ভরে যায়। শাপলার সবুজ পাতায় ভর করে পাখিরা সূর্যস্নান করে তারা। চলে পাখিদের খুনসুটি। দেখা যায় পাখিদের নিখাদ ভালবাসা সে এক অপরূপ দৃশ্য। যা শুধুমাত্র এ ক্যাম্পাসে এবং শীতকালেই দেখা যায়।

স্বচ্ছ লেকের জলে ফুটন্ত লাল শাপলা: ছবি-লেখক

জাহাঙ্গীরনগরে শীতের সকাল শুরু পাখিদের কলকাকলিতে। ক্লাস-পরীক্ষার তাড়া না থাকলে বিছানায় শুয়ে শুয়েই উপভোগ করা যেত পাখিদের গান! শীতের সকালে কুয়াশার মৃদু চাদর ভেদ করে শিক্ষার্থীরা দলবেধে ক্লাসে ছোটে। আর পাখিরা ছোটে খাবারের সন্ধানে। সবুজ এ ক্যাম্পাসে সূচনা ঘটে একটি কর্মব্যস্ত দিনের।
অলস দুপুরে পাখিরা যখন লেকগুলোতে জলকেলিতে মেতে উঠে। শিক্ষার্থীরা তখন ভীড় জমায় বটতলায়। শীতকালীন খাবারের বাহারি পসরা থেকে সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। আর তা দিয়েই নিজেদের ক্ষুধা নিবারনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শিক্ষার্থীরা৷
দুপুর গড়িয়ে আসে বিকেল। বাতাসে তখন হিমেল হাওয়ার আধিপত্য। শীতের পোশাক গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে এ সময় বেশকিছু পিঠার দোকান দেখতে পাওয়া যায়। চিতুই, ভাপা, পুলিসহ হরেক পদের পিঠার গন্ধ ভেসে বেড়ায় তখন ক্যাম্পাসের বাতাসে। মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া, অডিটোরিয়াম, টিএসসিতে চলে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সাংস্কৃতিক রাজধানীতে সাংস্কৃতিক চর্চা: ছবি-লেখক

বিকালের আলো যেন দ্রুতই ফুরিয়ে আসে। তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যা নেমে আসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। জ্বলে উঠে সাঝবাতি। আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ানো পাখিদের কিচির-মিচির ধ্বনি জানান দেয় এবার ঘরে ফেরার পালা।

আলোকিত মুক্তমঞ্চ: ছবি-লেখক

যেন মনে হয়,দ্রুতই ফুরিয়ে যায় এ ক্যাম্পাসে শীতের অপরূপ দিনগুলি! *লেখক: শিক্ষার্থী,
সাংবদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।