বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
প্রথমপাতা > ক্যাম্পাস > বিভাগের শিক্ষাসফর: যেন স্মৃতির জলসাঘর!  

বিভাগের শিক্ষাসফর: যেন স্মৃতির জলসাঘর!  

জাকির হোসেন*

চলছে আমাদের জাদুর গাড়ি। অজানা অদৃশ্য স্বপ্নপুরীর দিকে। সবার  মধ্যে দূর দ্বীপবাসিনীকে দেখার উত্তেজনা। বৃদ্ধ বয়সে বা কর্মব্যস্ত জীবনে সোনালী অতীত হয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষা সফর। শেষ বেলাতে অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করতে গেলে কখনো শিক্ষা সফরের মজার বিষয়গুলো মিস হয় না। ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী সবাইকে মজার সময়ের কথা বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের কথা আসবেই। শিক্ষাসফর হচ্ছে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সৌন্দর্য্য।

এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি সংগ্রহ করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ শিক্ষা সফরে গিয়েছিল দ্বারুচিনি দ্বীপ খ্যাত সেন্টমার্টিনে।

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখ গোধূলির অস্তমিত বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় আমাদের যাত্রা। বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নির্ঝর ভাইয়ের গিটারের আওয়াজ। বাসের মধ্যেই  শুরু হয় আমাদের নাচ-গানের আসর। শ্রদ্ধেয় চেয়ারপার্সন স্যার, নোমান স্যার, নিশাত ম্যামসহ সবাই যেনো অবাচনিক যোগাযোগের মাধ্যমে এটাই বোঝালেন বাসের মধ্যে আমাদের নাচ-গান আর উল্লাসে তাদের সমস্যা হচ্ছে না বরং স্যাররাও উপভোগ করেছেন আমাদের আনন্দ।
বন্ধু তুই লোকাল বাস, খাইরুন সুন্দরী, ডিজে, দূর দ্বীপবাসিনী কোনো ধরনের গানই বাদ পরলো না, সাথে চলছে ৪৭তম আবর্তন ও ৪৬তম আবর্তনের পাগলা নাচ।

এভাবেই নাচতে নাচতে টেকনিক্যাল পৌঁছানোর পর চেয়ারপার্সন স্যার সিট ছেড়ে উঠে আসলেন আমাদের মাঝে । স্যারও কিছু মজার কথা বললেন আর আমাদের লাফালাফিতে যেন বাস না ভেঙ্গে যায় এমন ঠাট্টাও করলেন।
সবাইকে সুস্থভাবে পৌঁছাতে হবে এবং ফিরে আসতে হবে তাই বাসে নাচানাচির সময় যেন অসুস্থ হয়ে না পড়ি সেদিকে খেয়াল রাখতে বললেন সবাইকে।
অনেক মজা-মাস্তি করে পথ চলতে চলতে মুন্সিগঞ্জের এক জায়গায় দেওয়া হলো আমাদের খাবার বিরতি। ক্যাম্পাস থেকে সাথে আনা খিচুড়ির প্যাকেট নিয়ে বাস থেকে নেমে সবাই এক প্রকার দাঁড়িয়েই খেলাম। এ এক অন্যরকম আনন্দ।
কিছুক্ষণ বিরতি দেওয়ার পর আমাদের জাদুর গাড়ি মহাসড়ক ধরে চলছে দূর দ্বীপের শহেরর দিকে।

শিক্ষাসফরের গাড়িতে কখনো ঘুম হয় না! আবারও সত্য প্রমাণ হলো। ৪ তারিখ গড়িয়ে ৫ তারিখ ভোর, কারো চোখে একটুও ঘুম নেই।

সবাই জেগে আছে এক অদৃশ্য আহ্বানে! শিক্ষকরা একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেও আমরা সবাই কিন্তু সজাগ দৃষ্টি ফেলছি বাসের জানালার বাইরে।

অন্ধাকারে কখনো দেখা যায় নতুন কোনো নগর আবার বাঁশ-ঝাড়, জোনাকি পোকা বা ধূ-ধূ প্রান্তর। এভাবে চলতে চলতে ফজরের আজানের একটু আগে আমরা কক্সবাজারের উখিয়াতে পৌঁছাই।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ক্যাম্প  আমার চোখেই পড়লো সবার আগে। দুই বান্ধবীকে ডেকে তুলতেই বাসের প্রায় সবাই জেগে উঠলো।

আস্তে আস্তে আমরা যাচ্ছি টেকনাফের দিকে। একটু করে সূর্যের আলো ফুটতে শুরু করেছে। কি সুন্দর স্নিগ্ধ সকাল!   এমন সকাল দেখিনি কখনো।  কি সুন্দর সে সূর্য উদয়!

এর মধ্যে আমাদের ক্যামেরাগুলো অন হতে শুরু করেছে। সকালের সে সৌন্দর্য্যকে ফ্রেমবন্দী করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেলো মোস্ট সিনিয়র দেবদা থেকে আমাদের সবার মধ্যে।

আঁকাবাকা রাস্তা, কখনো মাঠ, কখনো লবণতলা, কখনো পাহাড়ি টিলা। ততক্ষণে তন্দ্রা কাটিয়ে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি বাসের জানালার বাইরে।

টেকনাফ এসে পৌঁছুতে প্রায় ৭টা বেজে গেলো। বাস থেকে নেমে সবাই ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম টেকনাফ। সকালের এক ভিন্ন সূর্য অচেনা অদেখা পরিবেশ। অন্যরকম ভালো লাগা অনুভব করতে লাগলাম সবাই।ননাস্তা শেষ করে আবার সবাই বাসে একটু আগাতেই আমাদের স্থল পথের সমাপ্তি ঘটল।এবার জাহাজে ভ্রমণের পালা।
তার আগে অবশ্য আমাদের শিক্ষাসফরের টি-শার্ট সবার হাতে পৌঁছে দিলেন তাওফিক ভাই ও চৈতী আপু।

বাস থেকে শিপে যাত্রা করার আগে আবার একবার সাধারণ দিক নির্দেশনা দিলেন দেবদা। নাফ নদীতে দাঁড়িয়ে আছে সিন্দাবাদ, অসীম কৌতূহল নিয়ে সবাই হেঁটে যাচ্ছি সিন্দাবাদের কাছে। এ এক অন্যরকম ভালো লাগা, অন্য রকম অনুভূতি!

আমিসহ অনেকে জীবনে প্রথম শিপে উঠতে যাচ্ছিলাম,চোখে মুখে রাজ্যের বিস্ময়! কেয়ারি সিন্দাবাদ মোটামুটি বড় জাহাজ প্রায় ৬০০/৭০০ মানুষ অনায়াসে উঠতে পারে। ডেকসহ পুরো জাহাজ কানায় কানায় পরিপূর্ণ। আমরা উঠে পড়লাম সদলবলে। এত বেশি উচ্ছ্বসিত ছিলাম স্যার-ম্যামরা উঠেছেন কি না, তা না দেখেই আমরা জাহাজের ডেকে এক রকম লাফাতে শুরু করে দিয়েছি।

নাফ নদীর পানি অনেক বেশি সচ্ছ, সাদা রং-এর গাঙচিল আর পরিষ্কার আকাশ। এমন অপূর্ব দৃশ্য  জীবনে প্রথম। সেই মুহূর্তে সবাই এত বেশি আনন্দিত ছিলাম নিজেদের পৃথিবীর সেরা ও সুখী মানুষ মনে হচ্ছিলো।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর শুরু হলো সেই কাঙ্ক্ষিত নাফ যাত্রা। সতর্কতামূলক বিভিন্ন দিক নির্দেশনা আসতে শুরো করল জাহাজের মাইক থেকে আর আমাদের আনন্দ বেড়েই চলল। মনে পড়ছিল টাইটানিক ছবির কথা, মনে হচ্ছিলো আমরা সবাই টাইটানিক এর যাত্রী। রোমান্টিকভাবে দাঁড়িয়ে দু’হাত প্রসারিত করে যাচ্ছি সাগরের বুকে নতুন কিছু দেখার তীব্র ইচ্ছে নিয়ে, মহা আনন্দে ছুটে চলছি সবাই।

আমরা কি করছি দেখার জন্য কিছুক্ষণ পর চেয়ারপার্সন স্যার আর নিশাত ম্যাডাম আমাদের মাঝে আসলেন । আমাদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দমাখা মুখ দেখে মনে মনে  শিক্ষকরাও অনেক আনন্দিত ছিলেন, স্যারদের অভিব্যক্তি আমাদের সেটাই জানান দিচ্ছিলো।

জাহাকের ডেকে উজ্জ্বল স্যার আর নিশাত ম্যামের সাথে আমরা ছবি তুললাম। হাসি আনন্দ ঠাট্টায় মেতে উঠলাম। ডেক ছেড়ে যাবার সময় উজ্জ্বল স্যার আমাদের সবাইকে জাহাজে নিরাপদ থাকার ব্যপারে সতর্ক করে গেলেন। স্যার-ম্যাম যাবার পর শুরু হলো আমাদের গান-বাজনার পালা। নির্ঝর ভাই, তানভীর ভাই, ইন্দ্র ভাই গান শুরু করলে আমরা সবাই মিলে সুর ধরলাম। পুরো জাহাজের সব মানুষের দৃষ্টি আমাদের দিকে।
ইতিমধ্যে অনেকে জেনে ফেলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক শিক্ষা সফরে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে এই জাহাজে। সবাই কেমন যেনো একটু অন্যভাবে তাকাচ্ছে, সম্মান দিচ্ছে, আদর করতে চাচ্ছে। আমাদের ছবি তোলার সুবিধার্থে সরে দাঁড়াচ্ছে, আমাদের জায়গা করে দিচ্ছে। বাংলাদেশেরে একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার জন্যই হয়তো এমন সম্মান আর আদর পাচ্ছিলাম।

দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি, তখন ভালোবাসা ও আবেগটা অনেক দূঢ় হয়, মনের ভিতর জানান দেয় এই দেশটা আমার, এই মাটি এই মানুষ আমার। তাদের প্রতি আমি ও আমাদের দায়বদ্ধতা অনেক।
নাফ  নদী বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্ত নির্দেশ করে। নাফ নদী ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে গাঙচিলসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশী পাখি বাংলাদেশের অপার প্রকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ শাহ-পরীর দ্বীপ। শাহ-পরীর দ্বীপের ছোটো বড় পাহাড় গুলোর কেমন জানি মায়া আছে সকল পর্যটককে আকর্ষণ করতে পারে৷
নদী থেকে দেখা যায়, শাহা-পরীর দ্বীপ দিয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা রাস্তা ,যা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডের সাথে যুক্ত সর্বশেষ ভূমি দক্ষিণ পাড়ায়।

আস্তে আস্তে নাফ ছেড়ে আমরা সাগরের মোহনায়। বিশাল জল রাশি বড় বড় ঢেউ কাটিয়ে জাহাজ যাচ্ছে সেন্টামার্টিনের দিকে।
সাগরের মাঝে ৩০ মিনিট চলার পর চোখে ভেসে উঠলো সেই কাঙ্খিত সেন্টমার্টিন।  কিন্তু তখনো বহুদূর!  সাগরে ঢেউ বাড়তে শুরু করেছে সাথে বাতাসের তীব্রতা। আমরা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি নারকেলের জিঞ্জিরার দিকে। ক্রমশ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে সেন্টমার্টিন।
সবার মধ্যে উত্তেজনা।  একটু পর পৌঁছাবো সেই কাঙ্খিত দ্বীপে। সেন্টমার্টিন দূশ্যমান হওয়ার পর দুপুরের তীব্র রোদ, দীর্ঘ ভ্রমণ, দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি সব যেনো নিমিষেই উধাও।

দেখতে দেখতে চলে আসলাম জাদু দ্বীপের কাছে, এবার নামার পালা। অনেক উচুতে নামার ঘাট, সে তুলনায় জাহাজের ডেক অনেক নিচু। আস্তে আস্তে সবাই একে অপরকে সাহয্য করে নামিয়ে দিলাম ও নেমে গেলাম। এবার শুরু বালুতে পথ চলা। আমাদের জন্য যে রিসোর্টটা রিজার্ভ করা হয়েছে সেটি জেটি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। স্যার ম্যাডামদেরদের ২টা ভ্যান ঠিক করে দিয়ে সাগরের পার ধরে বালুতে হাঁটতে শুরু করলাম আমরা। বালুর  মধ্যে সবার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিলো কিন্তু অনেক খুশিও লাগছিলো। সবাই মিলে ছুটছি রিসোর্টের দিকে একে অপরের ব্যাগ বা লাগেজ এগিয়ে নিয়ে সাহয্য করে যেনো আমরা সত্যিকারের একটা পরিবার হয়ে উঠেছিলাম। যে পরিবারের সবাই মিলে দেখতে এসেছি, কৌতূহল মিটাতে এসেছি। বালুতে হাঁটতে হাঁটতে নানা ধরণের মজার কথা বলতে বলতে আমার পৌঁছে গেলাম আমাদের রিসোর্টে। তবে একটা খারাপ খবর এলো। চেয়ারম্যান স্যারের ফোন হারানো গেছে। সবাই মিলে অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম, ডিভাইসের লোকেশন দিয়ে খুঁজলাম হয়তো আসে পাশেই ছিলো কিন্তু স্যারের ফোনের চার্জটা হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত ফোনটা খুঁজে পেলাম না। সবার একটু মন খারাপ। স্যার বিষয়টি বুঝতে পেরে সবাইকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেন। তারপর আমরা খেতে বসলাম। সেই কাক ডাকা সকালে সেন্টমার্টিনে ২টা রুটি আর ডাল খাওয়ার পর আসলে কেউ কিছু খায়নি। সবার অনেক ক্ষুদা লেগেছিলো। টুনা মাছ, সবজি, ডাল দিয়ে সবার খুব ভালো একটা ভোজন হলো। তারপর কেউ কেউ বিশ্রাম নিতে চলে গেলো রুমে, কেউ রিসোর্টের দোলনাতে গা এলিয়ে দিলো, আমরা কয়েকজন চলে গেলাম সমুদ্রে জলের কাছে।

বিকাল ৩ টার মধ্যে প্রায় সবাই সমুদ্রের জলের কাছাকাছি চলে এসেছি, ইতিমধ্যে ভাটার কারণে পানি অনেকটা নেমে গেছে, সাগর পারের প্রবাল গুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সবাই যে যার যার মতো ছবি তুলতে শুরু করে দিয়েছি। আস্তে আস্তে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামতে সাগরের বুকে সূর্যের হারিয়ে যাওয়াকে অবাক দৃষ্টিতে অবলোকন করলাম।
সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত যে যার যার রুমে বিশ্রাম নিলাম তারপর আবার সাগরের জলের কাছে। জোয়ারের কারণে পানি ইতিমধ্যে রিসোর্টের দোলনা আর হেলান বিছানাগুলোর কাছে চলে এসেছে। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে শুনলাম সাগরের বিশাল গর্জন।

৬ তারিখ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই সবাই এক সাথে নাস্তা করলাম। ছেঁড়া দ্বীপ যাবো, এখান থেকে বেশ খানিকটা দূর। আমাদের জন্য ২টি ডেনিশ (লোহার ছোট ট্রলার) ভাড়া করা হয়েছে।


ডেনিশে সবাই ছেঁড়া দ্বীপে গেলাম। সফরের সবচেয়ে সুন্দর সময়ের মধ্যে ডেনিশে ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণ ছিলো অন্যতম। আমাদের ডেনিশটা ছিলো সামনে, পিছনে পিছনে ছিলো চেয়াপার্সন স্যারসহ সিনিয়র ভাই-আপুদের ডেনিশ।
পিছনের ডেনিশ থেকে চেয়াপার্সন স্যার নিজে আমাদের ছবি তুলছিলেন। তখন পোজ দিয়ে বারবার পিছনে ফিরে তাকাচ্ছিলাম। স্যার নিজে আনন্দিত মনে আমাদের ছবি তুলছিলেন। জীবনে অনেক ছবি তুললেও এই মুহূর্তটি জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তের একটি হয়ে থাকবে আজীবন। প্রবালের কারণে ডেনিশগুলোকে  অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং ছোটো ছোটো নৌকা দিয়ে ডেনিশে উঠতে ও নামতে হয়। ডেনিশ থেকে নামার সময় আমাদের নৌকাটা প্রায় ডুবে গেছিলো এমন সময় চেয়ারম্যান স্যারের বিচক্ষণতায় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পাই আমরা।

অবশ্য ইতিমধ্যে নৌকায় স্যারের অনুমতি নিয়ে স্যার ও সিনিয়র ভাইসহ বেশ কয়েকটি সেলফি তোলা হয়ে গেছে।

ছেঁড়া দ্বীপে নেমে প্রথমে একটা গ্রুপ ছবি তুলি আমরা, তারপর পৃথক পৃথকভাবে ঘোরাঘুরি করি ও ছবি তুলে ফিরে আসি ডেনিশে।

দুপুরে জেটি ঘাটে সবাই এক সাথে খাওয়া-দাওয়া করে ফিরে আসি রিসোর্টে।  তারপর সবাই মিলে দলবেঁধে যাই গোসলে। হই-হুল্লোড় করতে করতে সবায় মিলে গোসল করে আসি। এর মধ্যে অবশ্য একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেছে। সমুদ্রে গোসলের সময় ৪৭তম আবর্তনের তাওসিফের পা কেটে গেছে যায় প্রবালে। ওৃকে কাঁধে তুলে সমুদ্র তীরে উঠিয়ে আনি, তারপর সাইকেলে চড়িয়ে রিসোর্টে নিয়ে আসি।
বিকেলের সূর্য অস্ত দেখে সবাই  ফিরে আসি রিসোর্টে।  সন্ধ্যায় যার যার মতো রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। ইতোমধ্যে জোয়ার শুরু হয়েছে সমুদ্রের গর্জন প্রবল হয়ছে। ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছিলো রিসোর্টের পাড়ে।

অনকেটা অপ্রত্যাশিত একটা ফোন পাই চেয়ারপার্সন স্যার আমাদের সবাইকে ডাকছেন। স্যারের কাছে যেতেই স্যার নানারকম কৌতুক আর মজার মজার কথা বলে আমাদের সবাইকে মাতিয়ে দিচ্ছেন, আর হাসাচ্ছেন। স্যারের সাথে আমাদের মজার একটা আড্ডা হলো সে রাতে। তারপর রাতে খাবারের পর র‌্যাফেল ড্র, কৌতুক, গান, ক্যাম্প ফায়ারে অসাধারণ কিছু সময় কাটল। যা জীবনের ফ্রেমে এক সোনালী সময় হয়ে থাকবে বহুযুগ পরেও।


৭ তারিখ সবাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সোজা সমুদ্রে গোসল।  জোয়ারের পানিতে আমরা গোসল করছি সাঁতার কেটেছি,  সাঁতার ও ফুটবল খেলাসহ সবকিছুর মধ্যমনি আমাদের চেয়াপার্সন স্যার।  কারণ স্যার আমাদের সাথে ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে গোসল সব কিছুতেই অংশ নিয়েছেন আনন্দচিত্তে।

গোসল শেষে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে এবার ফেরার পালা। আবারও সিন্দাবাদে উঠেছি আমরা। যাচ্ছি ছেড়ে এই যাদু দ্বীপ। আবার কবে আসবো জানি না, সবার মনে কিছুটা খারাপ লাগা কাজ করলেও ফিরে যেতেই হবে প্রিয় শহর, প্রিয় নগরে।

কক্সবাজার এসে রাতার খাবার খেয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের  সুগন্ধী পয়েন্টে ঘোরাঘুরি এবং কেনাকাটা শেষে বাসে উঠি। মহাসড়ক দিয়ে যথেস্ট দ্রুত গতিতে আমাদের ট্যুরের বাস চলছে ক্যাম্পাসের  প্রাণে। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত সবাই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলে আসলাম প্রায় কুমিল্লা পর্যন্ত। কুমিল্লাতে এসে আরো একটি নতুন সূর্য নতুন সকালের সাক্ষী হলাম। বাস মুন্সিগঞ্জের কাছাকাছি আসতেই উজ্জ্বল স্যার বাসের মধ্যে আবার আমাদের সাথে আড্ডা দিলেন। মজা-মাস্তি কর‍তে করতে চলে আসলাম ক্যাম্পাসে। তবুও কোথাও যেনো একটু বিষাদের সুর। ঢাকা থেকে যে যার মতো প্রয়োজনুসারে নেমে যাচ্ছে বাস থেকে।  মনের মধ্যে একটু খারাপ লাগা কাজ করছিলো, কয়েক দিন এক সাথে থেকে সবাই যেনো সত্যিকারের পরিবার হয়ে গিয়েছিলাম।

বাস চলে আসলো ক্যাম্পাসে, পরিসমাপ্তি হলো বিভাগীয় আরো একটি শিক্ষা সফরের। স্মৃতির পাতায় জমা হলো আরো একটি সোনালী অধ্যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।